ফুলের রাজ্যে পরিণত হলো যশোরের গদখালীসহ সারাদেশে ফুল চাষ

ফুলের শহর যশর সহ সারাদেশে ফুল চাষ

আজকে আমরা জানাব  যে যশোর জেলা সহ সারা দেশে ফুল চাষের যে বৈপ্লবিক ধারা ইতোমধ্যেই সেবাই জেনে গেছে। শুরু করি- যেশোর জেলা দিয়েঃ

       বাংলাদেশের যশোর জেলার ঝিকরগাছার একটি এলাকা বিখ্যাত হয়ে উঠেছে ফুল চাষের কারণে। গদখালী নামের ওই গ্রামের আশেপাশে যতগ্রাম আছে হাজার হাজার একর জমিতে বছর জুড়ে উৎপাদন হচ্ছে দেশী বিদেশী নানা জাতের ফুল চাষ যার বার্ষিক বাজার মূল্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

এই গ্রামের ফুল সারাদেশ তো বটেই, যাচ্ছে বিদেশেও।

যশোর সদর থেকে প্রায় পঁচিশ কিলোমিটার দুরে ঝিকরগাছার এই গদখালী গ্রামে খুব ভোরেই জমে উঠে বাংলাদেশের বৃহত্তম ফুলের বাজার। ঢাকাসহ নানা জায়গার ব্যবসায়ীরা এসে ট্রাক বা পিক আপ ভর্তি করে ফুল নিয়ে যান আর এসব ফুল বিক্রি হয় সারাদেশে বিশেষ করে শহর এলাকাগুলোতে।

প্রতিদিনই এই গদখালী ও আশপাশের এলাকায় ফুলের রাজ্য দেখতে বিভিন্ন এলাকার লোক, বিভিন্ন শিক্ষার্থী, কৃষিবীদ সহ বিভিন্ন পর্যটকগন আসেন প্রতিনিয়তই এই অপরুপ মনকাড়ানো  বৈচিত্র দেখতে।

গদখালীতে ফুল চাষের ইতিহাস

গদখালীতে ফুল চাষ শুরু হয়েছিলো কিভাবে তার খোঁজ নিতে গিয়ে সন্ধান মিললো শের আলী সরদারের।

তার দাবি চার দশক আগে তার হাত ধরে এখানে শুরু হয় ফুলের চাষ আর এলাকার ক্ষেতখামার থেকে বিদায় নিতে শুরু করে ধান পাট বা এ ধরণের প্রচলিত শস্য।

তিনি বলেন, “১৯৮২ সালে এরশাদ আমলে এক বিঘা জমিতে রজনীগন্ধা দিয়ে শুরু করেছিলাম। আমার বাবার নার্সারি ছিলো এবং আমি সেখানেই বসে ছিলাম। ভারত থেকে আসা এক ভদ্রলোক এসে পানি চেয়েছিলো।”

“তার হাতে ফুল। তিনি বললেন এই ফুল পশ্চিমবঙ্গে অনেক হয়। তো আমি ভাবলাম পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের মাটি তো এক। তখনই শুরু করলাম রজনীগন্ধা দিয়ে”।

শের আলী সরদার ও স্থানীয় অন্যদের ভাষ্যমতে এভাবে প্রায় চার দশক আগে ফুল চাষের যে যাত্রা শুরু হয়েছিলো তার এখন বিস্তার ঘটেছে পুরো অঞ্চল জুড়ে। এখন আসছে নিত্য নতুন জাতের ফুল।

কোন ধরণের ফুল বেশি হয়

গদখালীর যেকোনো দিকে তাকালেই চোখে পড়ে একটার পর একটা ফুলের বাগান।

বিশেষ করে গোলাপ, গাঁদা আর অর্কিড, পাতাবাহার, রজনীগন্ধার বাগান রয়েছে অসংখ্য।

এর বাইরেও চোখে পরে পলি হাউজ বা ফুল চাষের বিশেষ ঘর।

স্থানীয় চাষিদের একজন শাজাহান কবীর বিবিসি বাংলাকে বলেন এসব ফুলের বাইরেও লিলিয়ামসহ নানা জাতের ফুল চাষ করছেন তারা।

“ভারত ও চীন থেকে কৃষকরা আসেন আমাদের সহায়তায়। আবার বিএডিসি যে গবেষণা করে সেখানেও তারা সহায়তা করেন”।

কৃষক শাজাহান কবীর বলেন, নিত্য নতুন জাতের ফুলের চাষের জন্য আলাদা জ্ঞানের দরকার হয় এবং সেটি তারা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পাচ্ছেন। এর ফলে ফুলের বাজার এখন গোলাপ, গাঁদা আর রজনীগন্ধার ওপর নির্ভরশীল নেই।

কৃষকরা কেমন লাভবান হচ্ছেন?

ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিমের ভাষ্যমতে, ফুলের বাজার এখন প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার।

“আর এতসব উদ্যোগের কারণেই অন্য ফসলের চেয়ে ফুল চাষেই চার পাঁচ গুন বেশি লাভবান হচ্ছে কৃষকরা।”

প্রবীণ চাষি শের আলী সরদার বলছেন ধান ও পাটের চেয়ে ফুলেই বেশি লাভ আর এখন অনুষ্ঠান বা দিবস বেশি হয় বলে ফুলের চাহিদাও অনেকে বেড়েছে। কিছু কিছু দিবস আছে যেগুলোতে ফুলের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে এবং বাড়বে। তাই ফুল চাষে বিনিয়োগ নিরাপদ”।

মিস্টার রহিম বলছেন, এসব বিষয় মাথায় রেখেই ফুল চাষ এবং নিত্য নতুন ফুলের জাত নিয়ে সরকারী বেসরকারি গবেষণাও শুরু হয়েছে।


এবার আসুন সারা বাংলার কিছু সুনামধন্য ফুল চাষীর শর্টকাট বিবরণঃ

◊ গাইবান্ধার  মোখলেছুর রহমান বিপ্লবঃ

গাইবান্ধার  ইদিলপুর ইউনিয়নের তাজনগর গ্রামের কৃষক মোখলেছুর রহমান বিপ্লব। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে ৯০ হাজার টাকা খরচ করে যশোর থেকে ২৫ হাজার গোলাপ চারা সংগ্রহ করেন। সেসব চারা তার ২২ শতক জমিতে খামার করে এতে তার ১০ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানান তিনি। এখন ছড়িয়ে গেছে এ উপজেলার প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে।

◊ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লিটন কুমারঃ

ফুলের চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপরহাটি গ্রামের লিটন কুমার (৩৫)। তাঁর মাসিক আয় প্রায় 12-30 হাজার টাকা। অভাব এখন আর তাঁর দুয়ারে হানা দিতে পারে না।

◊ দিনাজপুর বিরল থানার শমশেরঃ

বিরলের রবিপুর এলাকার ফুলচাষি শমশের জানান, তিনি আট শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলক ফুলচাষ করেন। ফুলের ভালো ফলন হওয়ায় তিনি বেশ লাভবান তাতে। তিনি আগামীতে এক বিঘা জমিতে ফুলচাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

◊ ফুল চাষে স্বাবলম্বী বদরগঞ্জের মানিক

ফুল চাষ এবং বিক্রি করাই মানিকের (৩৮) পেশা। আর এ ফুলের চাষ করেই আজ তিনি লাখপতি। মানিকের বাড়ি বদরগঞ্জের পৌর শহরের বালুয়াভাটা মহল্লায়। শ্রম আর অদম্য ইচ্ছা শক্তিই তাকে সাহস যুগিয়েছে ফুল চাষে। ইচ্ছা শক্তি থাকলে যে কোনো মানুষ সফলতার দ্বার প্রান্তে যেতে পারে মানিকই তার প্রমাণ।

[এই ফুল চাষীদের নিয়ে বিস্তারিত জানতে চান? কমেন্ট এ জানান]

তবে একটা কথা বলব যে “কিছু না করার চেয়ে কিছু করাটা উত্তম অন্তত বসে না থেকে আমরা যারা চাকরী খুজে বেড়াচ্ছি তারা এই ফুল চাষ শুরু করে দিতে পারি। আর এটা হয়ত আপনার আছেপাশে কম চাষ হয়। তো বুঝতেই পাছেন কি বলতে চাচ্ছি। এই পোষ্ট কষ্ট করে পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *