১লা বৈশাখের আনন্দ কমন হবে এই করোনায়?

১লা বৈশাখের আনন্দ কমন হবে এই করোনায়?

পয়লা বৈশাখ

বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব পহেলা বৈশাখ,

যা আর মাত্র কয়েকটি ভোরের অপেক্ষা।  বৈশাখ তো আসবেই কিন্তু সত্যিই ভোর হয়, পাখিও ডাকে তবে মানুষের মনে শঙ্কা-ভয়  থেকেই যায়, কখোন  যে কি হয়! আর এর মূল কারণ ‘করোনা’। ১লা বৈশাখের আনন্দ কমন হবে এই করোনায়? সবার অগচরে মনে মনে হয়ত অনেকেই করোনা ছাড়া আর এর দৈনিক খবরাখবর, পরিবার ও নিজেকে নিয়ে যে ব্যস্ততা যা এসব আনন্দকে ভুলিয়ে দেয়।

নেই মঙ্গল শোভাযাত্রা, নেই নতুন পোশাকে তরুণীর হাসি, নেই বটতলার সেই গানওয়ালার গান। ঘরের বাইরে তো বের হওয়া যাচ্ছেই না। যদিও পহেলা বৈশাখের জন্য সারা বছরের অপেক্ষা থাকে আমাদের। এবার দিনের ‍অপেক্ষা শেষ হলেও পরিস্থিতি ভিন্ন। করোনায় সংক্রমণের আতঙ্কে রয়েছে পুরো মানব জাতি।

‍এই অবস্থায় নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদে রাখতে প্রথমেই সব ধরনের নিয়ম মেনে চলতে হবে। এবারের বৈশাখে মেলায় না যেতে পারলেও আসুন ঘরেই তৈরি করি নিজেদের পছন্দমত রকমারি খাবার, সুস্থ থাকি, সুস্থ রাখি।


করোনায় স্থগিত হলো পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে জনসমাগম পরিহার করার জন্য আসন্ন পয়লা বৈশাখের সব ধরনের অনুষ্ঠান ও কার্যক্রম (তিন পার্বত্য জেলার বৈসাবিসহ) স্থগিত করার বিষয়ে আদেশ জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ্বেই এই বৈশাখি অনুষ্ঠান বাতিল করার ঘোষণা দেন।

রবীন্দ্রনাথের সেই জনপ্রিয় গানটি:

এসো হে বৈশাখ করনায়
এসো হে বৈশাখ করনায় নাকি এসোনা হে বৈশাখ কোনটা শুনতে পাব?

‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গানটি কি এবারের ১লা বৈশাখে শোনা যাবে? নাকি এবার শোনা যাবে এসো না এসো না তুমি, হে বৈশাখ বা এই ধরনের গান? না, এসব কিছুই হবে না। মন হয়ে গেলো খারাপ তো? হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক (গলায় ঝুলে পড়েছে) বন্যা যখন বললেন, সরকার এবার দেশের সব মহৎ ও গুণী শিল্পীদের নিয়ে বৈশাখ আবাহনীর ব্যবস্থা করে তা টেলিভিশন ও ফেসবুক লাইভে দেখানোর ব্যবস্থা করবে, তখন কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছি। 

 

১লা বৈশাখের আর দেরি নেই। কিন্তু এই বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠে করোনার প্রকোপ আরও বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। এই ঘোষণা যেন মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি না করে, নতুন বছরকে আনন্দচিত্তে সবাই যাতে বরণ করতে পারে, সেজন্য মানুষের মনকে প্রস্তুত করতে পারে হালকা আনন্দ নয়, আর  আমাদের কুশলী শিল্পী ও গায়করা যদি এই সংকটের দিনে বাঙালির হৃদয়ে তাদের বিভিন্ন মাধ্যমে অনুষ্ঠান দিয়ে এই আনন্দ সৃষ্টি করতে পারেন, তাহলে সেটাই হবে এবারের সেরা বর্ষবরণ।

অপরদিক দিয়ে তুলনামূলকভাবে করোনাকে মোকাবেলা করার ব্যাপারে হাসিনা সরকার তাদের সীমাবদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে প্রশংসা করার মতো না হলেও আশাপ্রদ সাফল্য দেখাচ্ছে। দেশবাসীর মনোবল ঠিক রাখতে পারলে আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ করোনাভাইরাসের মোকাবেলায় অনেক বেশি সাফল্য দেখাবে তবে আশংখ্যা তো দিন দিন বেড়েই চলছে । এই সাফল্য দেখানো- অর্থাৎ দেশবাসীর বিপন্ন ও আতঙ্কিত মনোবল দূর করার জন্য নববর্ষের অনুষ্ঠান সরকারের সামনে যদিও একটা সুযোগ এনে দিয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন, হেলথ সেক্টরে কঠোর হাতে দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি সরকার যদি দেশের মেধাবী এবং বুদ্ধিজীবীদের সঠিক মতো সম্মানের সঙ্গে কাজে লাগিয়ে বাংলা বর্ষবরণের অনুষ্ঠানটি সীমাবদ্ধ প্রচারের মধ্যেও ভালোভাবে করতে পারে এবং জনচিত্তে আতঙ্ক দূর করার সঙ্গে মনোবল ও নৈতিক শক্তি ফিরিয়ে আনতে পারে, তাহলে মানবতার বিরুদ্ধে অসম্ভব যুদ্ধ জয়ের অর্ধেকটা সম্ভব বলে আশা করা যাচ্ছে।

আজ আর বলতে বাকি নেই যে …………….. এসো হে বৈশাখ ঘরে ঘরে…………।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *