সাধারণত আমাদের ফেসবুক একাউন্ট হ্যাকার কতৃক শিকার হলে, আমরা তেমন গুরুত্ব দিয়ে ভাবিনা কিন্তু এরকম অনেকেই আছেন যারা ফেসবুকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জমা করে রাখেন। তাদের একাউন্টটি হ্যাকিং এর স্বীকার হলে, হ্যাকাররা অনেক সময় তথ্য প্রকাশ কিংবা নানা ধরনের ব্ল্যাকমেইল করে বড় ধরণের অর্থ হাতিয়ে নেয়। সাধারণত যারা ফেসবুক হ্যাক করে থাকে তাদের উদ্দ্যেশ্য এটাই থাকে কিন্তু অনেকের ফেসবুক প্রোফাইলে তেমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপত্ত না থাকায় হ্যাকাররা সবসময় সে সুবিধা করতে পারেন না।

ফেসবুক একাউন্ট হ্যাকিং থেকে বাঁচার কয়েকটি কৌশল/সুত্রঃ

১) শক্তিশালি পাসওয়ার্ড  ব্যবহার করুন-

অধিকাংশ ফেসবুক ব্যবহারকারীরাই তাদের ফেসবুক একাউন্টের পাসওয়ার্ড নিজেদের ফোন নাম্বার কিংবা নাম বা জন্মদিন ব্যবহার করেন। এক্ষেত্রে প্রোফাইল ঘেটে দুই একবার চেষ্টা করলেই এই ধরনের পাসওয়ার্ড যারা ব্যবহার করেন তাদের প্রোফাইলগুলো খুব সহজে হ্যাক করা যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পৃথিবীতে হ্যাক হওয়া ফেসবুক একাউন্টগুলোর মধ্যে ৮০%  এই ধরনের পাসওয়ার্ড ব্যবহারকারী।
একাউন্টটি নিরাপদ রাখতে হলে অবশ্যই আপনার পাসওয়ার্ডটি হবে অনেকটাই এলোমেলো প্রকৃতির যেটা মনে রাখতে আপনার নিজেরি কষ্ট হয়। একটি পাসওয়ার্ড দেখতে কেমন হওয়া উচিৎ? নমুনা দেওয়া হলো- 4321@MaSum অথবা md#mAsuM1 ইত্যাদি।

২) থার্ড পার্টি এ্যাপ  ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন-

      বাংলাদেশে বলতে গেলে অধিকাংশ ফেসবুক ব্যাবহারকারীরা থার্ড পার্টি এ্যাপ কি সেটাই বুঝে না। থার্ড পার্টি এ্যাপ হচ্ছে, ফেসবুকের বাইরে বা কিছু কিছু এ্যাপ ফেসবুক এর মতই দেখতে কিন্তু অরজিনাল ফেসবুক এ্যাপ না।
      এছাড়া, কিছু উদাহরণ দেওয়া যায়, যেমন- অনেকেই তাদের প্রোফাইলে আপলোড দেন এইরকম কিছু পোস্ট যে, তিনি দেখতে কেমন, নায়ক কত পার্সেন্ট, কয় বাচ্চার মা হবে, কত পার্সেন্ট দয়ালু ইত্যাদি- হাস্যকর হলেও সত্য যে তৃতীয় কোন এ্যাপ দেখে লিংকগুলো আবার আমরাই শেয়ার করি। সাধারণত এই ধরণের এ্যাপগুলো ফেসবুক একাউন্ট থেকে আপনার তথ্য হাতিয়ে নিয়ে থাকে। যেকোন সময়, আপনার তথ্যগুলো এভাবেই ফেসবুক একাউন্টটি হ্যাকিং এর শিকার হতে পারে।

৩) আজেবাজে অজানা লিংক শেয়ার থেকে বিরত থাকুন-ফেসবুক একাউন্ট হ্যাকিং মেসেজ

অনেকেই আছেন যারা সংবাদ কিংবা মনের মত নিউজ বা তথ্য পেলেই শেয়ার দিয়ে বসেন। লিংকটি কোন বিশ্বস্ত সোর্স কি না তা নিয়ে তারা মাথা ঘামান না। অনেকসময়, হ্যাকাররা এসব মুখরোচক খবর পোষ্ট করে, যখনই একজন ব্যবহারকারী সেই সাইট ভিজিট করতে যায় তখনই ব্যবহারকারীর বিভিন্ন তথ্য চলে আসে বিভিন্ন কোডিং এর জন্য সুতরাং কোন মুখরোচক খবর বা তথ্য পেলে আগে ওয়েবসাইটের লিংকে তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করুন, এটি কোন বিশ্বস্ত সাইট কি না, না জানলে অন্যকে জানান লিংক এ ক্লিক করা ছাড়াই।

৪) স্প্যাম মেসেজ থেকে সাবধান-

জেনে না জেনে অনেকেই স্প্যাম মেসেজ এর রিপ্লাই করে থাকেন। স্প্যামিং মেসেজে মাঝে মাঝে হ্যাকাররা আনভিজিবল কোড ব্যাবহার করে থাকেন যার ফলে আপনার অজান্তেই ফেসবুক আইডির সকল তথ্য চলে যায় হ্যাকারদের হাতে। প্রশ্ন হচ্ছে, স্প্যাম মেসেজ কি? স্প্যাম মেসেজ হলো  কয়েক লাইনের একটি আকর্ষনীয় বার্তা যা একজন ব্যবহারকারী অন্য আরেক ব্যবহারকারীকে মেসেজে পাঠান। সেই ব্যবহারকারী পুনরায় আরেক ব্যবহারকারীকে পাঠান, এভাবেই চলতে থাকে আর এভাবে 20 জন ব্যবহারকারীকে পাঠান তাহলে অন্তত ৫ দিনের মধ্যে ভালো খবর পাবেন অথবা 5 মিনিটি এ 500 টাকা ইনকাম করুন, 100 টাকা বোনাস পেতে এই লিংক এ ক্লিক করুন আজকেই শেষ দিন ইত্যাদি ইত্যাদি।

৫) শুধুই ফেসবুক এপ ব্যবহার করুন ফিসিং সাইট ব্যাবহার থেকে বিরত থাকুন-

অধিকাংশ সময় ব্যবহারকারীরা ভুল করে ফেসবুকের মত হুবুহু দেখতে কিন্তু ফেসবুক নয় এমন কিছু এপ্লিকেশন ডাউনলোড করে ব্যবহার করেন। এসব এপ্লিকেশনগুলো বা সাইটগুলোকে ফিশিং সাইট বলা হয়। এই সাইটগুলোর উদ্দ্যেশ্য, ব্যবহারকারীদের ধোকা দিয়ে তাদের কাছ থেকে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া। যারা ইন্টারনেট সম্পর্কে তেমন জ্ঞান রাখেনা তাদের অধিকাংশই এসব সাইটে গিয়ে নিজের আইডি দিয়ে প্রবেশ করেন কিন্তু যারা কিছুটা এক্সপার্ট তাদের মধ্যেও অনেকেই ফিশিং সাইটে মাঝে মধ্যেই জানার জন্য হলেও ব্যবহার করে থাকেন।
আপনার ফেসবুক একাউন্ট সুরক্ষায় সচেতন হোন।