A to Z CPA Marketing Part-1, সিপিএ মার্কেটিং এর সম্পূর্ণ ধারণা

CPA marketing A to Z Part 1

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং তরুণদের মাঝে যতটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, আউটসোর্সিংও কিন্তু ঠিক ততটাই কোম্পানিগুলোর নির্ভরতা বৃদ্ধি করেছে । কোম্পানিগুলোর সেলস্ এবং মার্কেটিং এখন পুরোটাই উন্মুক্ত, অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে খুব সহজেই তারা তাদের প্রোডাক্ট এর মার্কেটিং তথা অ্যাডভারটাইজ, সেলস্ এবং লিড জেনারেট করিয়ে নিতে পারে । আজকে আমরা শিখব- CPA Marketing নিয়ে বিস্তারিত তথ্য, চলুন শুরু করা যাক!

CPA মার্কেটিং কী?

সিপিএ  (CPA) এর পূর্ণরূপ হল Cost Per Action অর্থাৎ আপনার দেওয়া লিঙ্কের মাধ্যমে গিয়ে কেউ নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিলেই আপনার অ্যাকাউন্টে ডলার (টাকা) জমা হবে। পদক্ষেপটি হতে পারে কোনকিছু Download করা, Survey complete করা, কিছু Order দেওয়া বা কেনাকাটা করা, Email submit করা, Zip code submit করা ইত্যাদি ইত্যাদি। এইরকম প্রায় প্রতিটি কনভার্ট এর জন্য বায়াররা সাধারণত $0.50 থেকে $20 পর্যন্ত ফ্রিল্যান্সারদেরকে পে করে থাকে। তবে  কিছু কিছু প্রোডাক্টে $200 বা তার চেয়েও বেশি ডলার পাওয়া যায়।  আর এই ধরনের মার্কেটিংকে PPL বা Paid Per Lead মার্কেটিং বলা হয়।

সিপিএ (CPA) মার্কেটিং এর অতিরিক্ত কিছু শব্দ পরিচিতি

Advertiser: যারা CPA নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের এডভার্টাইজ বা বিজ্ঞাপণ দিয়ে থাকে, হতে পারে সে রিটেইলার, অনলাইন রিটেইলার অথবা মার্চেন্ট এদেরকেই Advertiser বলা হয়।

Publisher:  যারা নির্দিষ্ট কমিশনের জন্য কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস মার্কেটিং বা প্রোমোট করে থাকে। এক্ষত্রে আপনি, আমিই  হতে পারি পাবলিশার।

PPC (Pay Per Click):  আপনার সাইটে থাকা অন্যের প্রোডাক্টের ব্যানার বা লিঙ্কে প্রতিটা ক্লিকের জন্য পাবলিশারকে বা আপনাকে যে ডলার/টাকা পে করা হয়। গুগল এডসেন্স হলো এর মূল উদাহরণ।

PPL (Pay Per Lead): এই ক্ষেত্রে আপনাকে প্রতিটা লিড এর জন্য পে করা হবে। ধরুন- আপনি কোন এডভার্টাইজার এর প্রোডাক্টের বা পণ্যের বিজ্ঞাপণ আপনার ওয়েবসাইটে ব্যানার হিসাবে রাখলেন। পরবর্তিতে আপনার সাইট থেকে ২০ জন ভিজিটর ঐ বিজ্ঞাপণে ক্লিক করে এডভাটাইজারের সাইটে কনভার্ট হয়ে গেল। এর মধ্যে ধরি ২ জন নাম ও ইমেল এড্রেস দিয়ে একটি ফর্ম পুরণ করল। তার মানে আপনি ২টি লিড পেয়ে গেলেন এবং আপনাকে এই ২টি লিডের জন্যই পে করা হবে। (প্রোডাক্ট, পণ্য বা সার্ভিস সেল করা আবশ্যিক নয়, শুধুমাত্র রেজিষ্টেশন বা ফরম পুরনের জন্য আপনাকে পে করা হবে)

সিপিএ (CPA) মার্কেটিং এ কিভাবে কাজ করা হয়?

ধরুন- কোন কিছু ডাউনলোড, কোন সাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশান, শেয়ার ইত্যাদি। 

এফিলিয়েট মার্কেটিং-এর  গুরুত্বপূর্ণ পার্ট হচ্ছে সিপিএ মার্কেটিং। এখানে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের অফার থাকে, কোন ভিজিটর যদি সেই অফারে শুধুমাত্র রেজিষ্টেশন করে তাহলে  প্রতিটি রেজিষ্টেশনের এর জন্য আপনাকে পেমেন্ট করা হবে।

ধরুন- বিদেশি যেকোন ব্যাংক তাদের ব্যাংক লোন এর জন্য কাষ্টমার খুজছে, এখন আমাকে যে কাজ দেওয়া হবে তা হলো কাষ্টমার কে শুধুমাত্র রেজিষ্ট্রেশন করানো আমার এফিলিয়েট লিংক এ । এখানে কাষ্টমার রেজিস্টার কারার পর পোডাক্ট/পণ্য/সার্ভিস  ক্রয়/ব্যবাহার নাও করে তাহলেও আমি আমার কমিশন পাব। তবে এফিলিয়েট মার্কেটেএ যতক্ষন না আপনার পোডাক্ট বিক্রি হবে ততক্ষন আপনি কোন কমিশন পাবেন না। সহজ ভাবে বলতে গেলে- আপনি শুধু কাস্টমার/গ্রাহক নিয়ে আসবেন সেই ব্যাংক বা কোম্পানির সার্ভিস/ প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য। চাই সে ওই সার্ভিসটি গ্রহণ করুন আর না করুক আপনার মাধ্যমে যতজন কাস্টমার সেই ব্যাংক বা কোম্পানি পাবে তার বিনিময়ে আপনাকে কমিশন দেওয়া হবে।

সিপিএ মার্কেটিং মূলত নির্ভর করে

  • ভিজিটরদের ইমেইল সাবমিট করা  
  • ভিজিটরদের মোবাইল নং সাবমিট করা
  • সফটওয়্যার, টুলবার বা গেইম ডাউনলোড করা
  • সাইটে সাইন আপ করা
  • অনলাইনে গেইমের অ্যাকাউন্ট তৈরি করা
  • নিউজলেটার সাইন আপ করা ইত্যাদি।

সিপিএ মার্কেটিং এর আওতায় যা যা থাকে-

  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং [পে পার সেল (PPS / CPS)]
  • পে পার লিড (PPL)
  • রেভিনিউ শেয়ার (Rev. Share)
  • পে পার ডাউনলোড (PPD) ইত্যাদি।

অ্যাকশন বলতে কি বোঝায় ?

  • কোনো অফার/প্রডাক্ট কেনা
  • ইমেইল আইডি দেয়া
  • ফেসবুক আইডি দিয়ে সাইন আপ বা এ্যাকাউন্ট খোলা
  • সাবস্ক্রাইব করা
  • কোন সাইটে সাইন আপ করা
  • অনলাইনে কোন গেইম এর জন্য অ্যাকাউন্ট খোলা
  • গেম অথবা কোনকিছু ডাউনলোড করা
  • এছাড়া কোন সাইটে নিজের পোস্ট কোড দেয়াটাও এক একটা অ্যাকশন।

কোথায় শিখবেন সিপিএ(CPA) মার্কেটিং

বর্তমানে সিপিএ মার্কেটিং শেখায় এরকম অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যেখান থেকে আপনি সিপিএ কোর্সটি করতে পারেন। তবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আমি দিকনির্দেশনা দিব আপনি আপনার মেধাকে সীমাবদ্ধ রাখবেন না আর তাই আপনি চাইলেই ফ্রিতে শিখতে পারেন অথবা টাকা দিয়ে বিভিন্ন র্কোস করতে পারেন। যেমন-

ফ্রিতে শিখতে চাইলে –

  • ওয়েবসাইট / ব্লগঃ  আমাদের এই ওয়েবসাইটের মতো অনেক ওয়েবসাইট আছে যারা অনেক কষ্ট করে তাদের বাস্তবতার অভিজ্ঞতা গুলো আপনাদের মতো পাঠকদের কাছে শেয়ার করতে চায়। যারা আবার বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারে সেই কোর্স গুলোই নিয়ে থাকেন আর তাদের ছাত্র/ছাত্রীদের উদারহরণ হিসেবে এই ওয়েবসাইটগুলোকেই অনুসরণ করতে বলেন। 

সুতরাং সেই জন্য বলব একটু কষ্ট করে অনলাইন ঘাটাঘাটি করে ফ্রিতেই অনেক কিছু শিখতে পাবেন। (মান যাচাই করে)

  •  ইউটিউবঃ বিশ্বের প্রায় অনলাইন ব্যবহারকারীদের মধ্যে শিংহভাগ লোক থাকে ইউটিউব এ এবং সেখানেও অনেক বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেক এক্সপার্টরাই শেয়ার করে থাকেন। সুতরাং আপনি এই সেক্টরটাও ব্যবহার করে ফ্রিতে শিখতে পারেন।
  • PDF book: বিভিন্ন পিডিএফ বই ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে পড়তে পারেন এবং বাস্তবে প্রয়োগ করেন।

টাকা দিয়ে শিখতে চাইলে-

  • অনলাইন প্রশিক্ষনঃ অনলাইনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রই বিভিন্ন ধরনের কাজ শিখিয়ে থাকেন লাইভ/টিউটোরিয়াল এর মাধ্যমে, এটাও খুব ভালো সেক্টর।
  • ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ সেন্টারঃ ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষন সেন্টার গুলোতে শিখার জন্য আমি সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিব, অনলাইন লাইভ এর থেকে প্রশিক্ষণ সেন্টারে শিখে লাইভ ফ্রিল্যান্সিং শেখা কি ভালো না? অবশ্যই ভালো।

শেষকথা একটাই আপনি একজন শিক্ষত মানুষ, আর তাই আপনাকেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আপনি কি শিখবেন? আর কোথায় শিখবেন? এই অংশটু হয়তো আমি চেষ্টা করেছি আপনাকে বুঝাতে।

সুতরাং  সিদ্ধন্ত নিন  করণ একটা কথা মনে রাখবেন ”কিছু না করার থেকে কিছু করাটা অনেক উত্তম” (চাই সেটা ভুল কিংবা সঠিক হক, শুধু মনে রাখবেন যা ফলাফলেই আসুক না কেন আমি এখান থেকে শিখলাম মনে করে বাস্তবে কাজে লাগাতে পারলেই আপনি সাকসেস/সফল।

দুয়া করবেন ভালো থাকবেন আর পরবর্তী পোষ্ট দেখার আমন্ত্রন জানিয়ে, এখনকার মতো বিদায় আল্লাহাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *